[caption id="attachment_338" align="alignnone" width="217"]
সৈয়দ আতাউর রহমান (কবির)[/caption]
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ (শেষআলো ডটকম)::-সৈয়দ আতাউর রহমান (কবির) ‘‘রাস্তার স্লোগানের ওপর
নির্ভর করে বিচার করা হলে বিচার বিভাগ রেখে কী লাভ? “—বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
মন্তব্য: রাস্তার শ্লোগানের ওপর নির্ভর করে তত্বাবধায়ক সরকার পূণর্বহাল করা হলে বিচার
বিভাগ রেখে কী লাভ???
টরন্টো প্রবাসী আমার একজন সোসাল নেটওয়ার্ক সাংবাদিক ও কলাম লেখক ফ্রেন্ডের অনার্গল
স্টাটাচের মধ্যে আজ রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ উপরে উল্লেখিত স্টাটাচ টি আমার দৃষ্টি আকর্ষন
হলে আমি কমেন্ট করতে গিয়ে যা লিখলাম প্রায় হুবাহু তা তুলে ধরলাম ।
কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই। Dear FB SAS এর সাথে আমি একমত হতে পারছি না ।–শাহবাগের
গন জাগরণ কোন প্রেক্ষাপটে হয়েছে?
খেয়াল রাখবেন বর্তমানটা যেন ভুল ইতিহাস হয়ে না যায় । কাদের মোল্লার রায়ের আগেই সরকার ও
পুলিশের আচারনে মানুষের মাঝে পরিস্কার হয়ে যায় যে, জামাতের সাথে সরকার ও পুলিশের সমঝোতা
হয়ে গেছে । প্রথমতঃ হঠাৎ জামাত শিবিরের কর্মসূচীতে পুলিশের কোন বাঁধা না দেওয়া, ঢাকার প্রান
কেন্দ্র মতিঝিলের মত বানিজ্যিক এলাকায় জামাত শিবিরের জনসভা করতে অনুমতি প্রদান করা এবং
সেই জনসভায় অংশগ্রহন কারী জামাত শিবিরের কর্মীদের মিছিল থেকে পুলিশের সাথে ফুলবিনিময় করা।
এ গুলি দেখে দল মত নির্বিশেষে মানুষের মাঝে পরিস্কার হয়ে যায় যে, জামাতের সাথে সরকার ও
পুলিশের সাথে সমঝোতা হয়ে গেছে। তবুও মানুষ চলমান বিচারের রায়ের অপেক্ষায়থাকে ।
কিন্তু এরপরেই ট্রাইবুনাল হতে কাদের মোল্লার যাবৎজীবন কারাদন্ডের যে রায় আসে তা মানুষের
সন্দেহের সাথে মিলে একাকার হয়ে যায় । সরকারের মন্ত্রীরা বলতে শুরু করলেন ট্রাইবুনাল নিরপেক্ষ
সকারের কোন হাত নেই ট্রাইবুনালের উপরে ।বিষয় টা আলীগ শুভকঙ্খীরাও ভালভাবে নিতে পারেনি,
তাদের হতাশা থেকে তারা প্রতিবাদ করতে থাকে, সরকারের এহেনো সমঝোতার রায়ের বিরুদ্ধে।
অর্থাৎ জনতা জামায়াতের সঙ্গে সরকারের আঁতাতের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের রায়কে প্রভাবিত করার
অভিযোগ এনেই তারা এ আন্দোলন শুরু করে।
অনলাইনে প্রথমে ক্ষুদ্র আকারে কর্মসূচী দেয় আওয়ামী ও বাম পন্থী নবীন ফেজ বুকব্যাবহার কারী
ও ব্লোগারা। তারা একত্রিত হবে শাহাবাগে এবং মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করবে। তথাকথিত
সমঝোতার রায় তারা মানে না বরং তারা কাদের মোল্লার ফাঁসী দাবী করছে ।তাদের এ দাবীর সাথে
প্রথমে একাত্রতা পোষন করেন বিক্ষুব্ধ আলীগ কর্মী সমর্থক ও আলীগ সমর্থক সংস্কৃতিক
কর্মীরা ।অত্যান্ত সতর্কতার সাথে সেখানে জড়োহয় বিএনপির লিবারেল পন্থী বিপুল সংখ্যক
সমর্থক ।
সমবেত সবাই সরকারের সাথে জামাতের সমঝোতাকে ঘৃনভরে প্রত্যাখান করেন । বিক্ষুব্ধ লাখ জনতা
পেয়ে যান একটা প্লাটফরম । জনতা ট্রাইবুনালের উপর অনাস্থা নিয়ে শাহবাগ যায়নি তবে ট্রাইবুনালের
রায় তারা মেনে নেননি । জনতা যুদ্ধ অপরাধের সর্বোচ্চ রায় ফাঁসীর জন্য শাহাবাগে শান্তি পূর্ন
অবস্থান করছেন দিনের পর দিন ।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে ,সব আইন ও নিয়ম মেনেই এবং যতটুকু
অর্জন হয়েছে সব আইন মেনেই হয়েছে। ভবিষ্যতে যা হবে আইনের বাহিরে কছুই হবে না।কিন্ত আইন
তৈরী করেন কারা ? শাহাবাগ আন্দোলনের ঢেউ কী সংসদে গড়ায় নি? সংসদে কী আইন পরিবর্তনের বিল
উত্থাপিত হয়নি? সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের ইচ্ছা করলেই সব সম্ভব হয় ।
‘রাস্তার স্লোগানের ওপর নির্ভর করে বিচার করা হলে বিচার বিভাগ রেখে লাভ কী? ” -বার
কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়
।রাস্তার স্লোগান যদি তত্বাবধায়ক সরকার পূণর্বহাল করার মত যৌক্তিক হয় তবে সে স্লোগানে
দোষ কি? রাস্তার স্লোগান তখন যৌক্তিকতাকে বিকাশিত করে ।
তত্বাবধায়ক সরকার পূণর্বহাল করার জন্য রাস্তার শ্লোগানও অপরিহার্য হবে, যেমন হয়েছিল
১৯৯৬ সালে ।বিষষয়টা হল আলীগ ছাড়া তত্বাবধায়ক সরকার পূণর্বহাল করার বিপক্ষে কারা ছিল? ১০
জন এমিকাসকিউরীর মধ্যে ৯ জনই ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থার পক্ষে। আর তত্বাবধায়ক
সরকার পূণর্বহাল করা বা বতিল করার প্রসংগে যে বিচার বিভাগের রায়ের প্রসংগের কথাবলাহয়ে
থাকে সেখানে তো সমাধানেরও একটা বিষয় উল্লেখ ছিল । যা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের ইচ্ছার কাছে
পদদলিত হয়েছে।